ডিজিটাল মার্কেটিং
আজকের ডিজিটাল বিশ্বে, আমরা সবাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আমাদের ব্যবসা বাড়াতে চাই। এই প্রতিবেদন টির মাধ্যমে আপনি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কত ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং হতে পারে সে ব্যাপারে পরিচিত হবেন। এছাড়াও, আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO), পে-পার-ক্লিক (PPC), সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), ভিডিও মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে পারবেন।
⚡ডিজিটাল মার্কেটিং কি ?
“ডিজিটাল মার্কেটিং” Digital marketing হল এমন একটি শব্দ যা ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছর ধরে প্রায়শই ব্যাবসা বারানোর লক্ষে ব্যবহার করছেন। সাধারণভাবে, আজকের ব্যবসা উন্নয়নের সবচেয়ে সফল পদ্ধতি হল ডিজিটাল মার্কেটিংDigital marketing । বর্তমান সময়ের ক্রেতারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং স্মার্ট। এই সময়ের ক্রেতারা কিছু কেনার আগে ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্রব্যটি সম্পর্কে অবগত হয়ে যাচ্ছেন। আপনি বা কোন ব্যবসায়ী যখন ইন্টারনেটে ডিজিটালভাবে কোন জিনিসপত্র বিক্রি করছেন, তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল বলা হয়। এই ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলগুলির মাধ্যমে, আপনি আপনার ক্রেতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন এবং আপনার কোম্পানির পণ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বুঝতে পারেন। সহজভাবে বলতে গেলে, আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর নিয়ম নীতিগুলি জানেন, তাহলে খুব সহজেই আপনি অনলাইনে আপনার কোম্পানির পণ্য, পরিষেবা বা ব্র্যান্ড বিক্রি বা প্রচার করতে এই ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি টি অবলম্বন করতে পারেন। আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে সারা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তির সাথে অবিলম্বে যোগাযোগ বা সংযোগ স্থাপন করতে পারেন
ডিজিটাল মার্কেটিং কত প্রকার
আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংকে মূলত ৮ টি বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করতে পারি, যার মধ্যে রয়েছে:
• সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO),
• পে-পার-ক্লিক (PPC),
• সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM),
• কন্টেন্ট মার্কেটিং,
•ইমেল বিপণন,
• মোবাইল মার্কেটিং,
• ভিডিও মার্কেটিং,
• ইনফ্লুএন্সার এবং অ্যাফিলেট মার্কেটিং,
এখন আমরা প্রতিটি বিভাগ সম্পর্কে আরও গভীরে আলোচনা করবো।
সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান
আপনারা হয়তো অনেক সময় লক্ষ করেছেন, আমরা যখন Google search এর মাধ্যমে কিছু সার্চ করি, তখন প্রথম ৩ থেকে ৫ টি সমাধান বা সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টের মধ্যে আপনি বিজ্ঞাপন দেখবেন। বিজ্ঞাপন গুলি সাধারণ ভাবেই দেয়া থাকে এবং তার আগে [Ad] বলে লেখা থাকে। বিভিন্ন কোম্পানি বা business owners রা Google Addword দ্বারা গুগল সার্চ ইঞ্জিন বা অন্য অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুলিতে এভাবে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ব্লগ বা ওয়েবসাইটের দ্বারা নিজের product বা service এর মার্কেটিং, প্রচার বা গ্রাহক খোঁজার চেষ্টা করাকেই search engine marketing বলা হয়।
পে-পার-ক্লিক (PPC)
এই প্রক্রিয়াএ, কোম্পানির প্রচারের জন্য পেইড ওয়েব বিজ্ঞাপন চালু করা হয়। প্রতিবার ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা হলে, আপনাকে চার্জ করা হবে। সুতরাং, ইন্টারনেট চ্যানেলে ক্রমাগত লক্ষ্যযুক্ত বিজ্ঞাপনগুলি চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট খরচের পরিবর্তে আপনি শুধুমাত্র সেই বিজ্ঞাপনগুলির জন্য অর্থ প্রদান করেন যেগুলির সাথে গ্রাহকেরা ইন্টারঅ্যাক্ট করে৷ সার্চ ইঞ্জিন বিজ্ঞাপন হল সবচেয়ে জনপ্রিয় PPC কৌশলগুলির মধ্যে একটি ।
প্রতিটি অ্যাক্সেসযোগ্য বিজ্ঞাপন একটি অ্যালগরিদম দ্বারা র্যাঙ্ক করা হয় ,এগুলির কয়েকটি ভাগ রয়েছে সেগুলি হল:
• বিজ্ঞাপনের গুণমান;
• কীওয়ার্ড প্রাসঙ্গিকতা;
• ল্যান্ডিং পেজের গুণমান।
সামাজিক মিডিয়া মার্কেটিং
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো এমন একটি মার্কেটিং এর উপায় যেখানে বিভিন্ন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট যেমন “Facebook“, “Twitter” বা “Instagram” ব্যবহার করে brand, product বা service প্রোমোট করা হয়। আজ সব ধরণের গ্রাহক বা ভোক্তা (consumer) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় কারণ, স্কুলে পড়া স্টুডেন্ট থেকে retired হওয়া বয়স্ক লোক অব্দি সবাই social media websites ব্যবহার করেন। তাই বিভিন্ন কোম্পানিরা social media marketing এর দ্বারা, তাদের পণ্যর (product)বিভিন্ন ভাগের (category) যাবতীয় তথ্য অনেক সহজে ভোক্তা বা গ্রাহক দের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।কোটি কোটি ব্যবহারকারী আছে যারা সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য শীর্ষ কৌশল হল
• আপনার মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়াগুলিতে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুতে হবে।
• উচ্চ মানের এবং আকর্ষক বিষয়বস্তু তৈরি করতে হবে।
• বিপণনের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ করতে হবে৷
• আপনার টার্গেটেড দর্শকদের চিনতে হবে এবং বুঝতে হবে কখন তারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে৷
• পোস্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী তৈরি করতে হবে।
কন্টেন্ট মার্কেটিং
কন্টেন্ট মার্কেটিং এর গোপন বিষয় হল আপনার বিষয়বস্তুর মান উন্নত করা। এর প্রাথমিক লক্ষ্য হল আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের বা ক্রেতা দের প্রাসঙ্গিক এবং উপকারী উপাদান প্রদান করা। যেকোনো ডিজিটাল বিপণন কৌশলের মতো, বিষয়বস্তু বিপণনের লক্ষ্য হল লিডদের আকর্ষণ করা, যাতে তারা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাতে রূপান্তরিত হয়। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র গুলি হলঃ
• ব্লগ এন্ট্রি,
• ই-বুক,
• সংবাদ গ্রুপ,
• অডিও বা ভিডিওর প্রতিলিপি,
• ইনফোগ্রাফিক্স,
ইমেল বিপণন
ইমেইল মার্কেটিং বেশ দক্ষ এবং একটি চমৎকার ধারণা। যেখানে কোনো পণ্য, ব্র্যান্ড বা সার্ভিস এর মার্কেটিং বা প্রচার ইমেইল এর মাধ্যমে করা হয়। সাধারন আমরা যেভাবে ইমেইল করি সেটা ইমেইল মার্কেটিং নয়। এখানে, যেই service বা product বা brand আপনি প্রচার করতে চাচ্ছেন সেটার বিষয়ে আপনার ভালো করে message লিখতে হয়। তার পর, সেই message ইমেইল এর মাধ্যমে হাজার হাজার লোকেদের ইমেইল আইডিতে পাঠিয়ে দিতে হয়।এর জন্য একটি অপ্ট-ইন তালিকা থাকতে হবে যেখানে প্রত্যেকের নাম এবং ইমেলের বিষয়বস্তু অনন্য।
• সাবস্ক্রাইবারকে যে ধরনের ইমেল পাঠানো হবে তা পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করতে হবে।
• একটি পদ্ধতি বা পছন্দ নির্দিষ্ট করে যা সদস্যতা ত্যাগ করা সহজ করে তোলে।
• লেনদেন এবং প্রচারমূলক ইমেলগুলিকে একত্রিত করা৷
মোবাইল মার্কেটিং
নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, মোবাইল মার্কেটিং হল একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল যা স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের মতো গ্যাজেট ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন, এসএমএস এবং এমএমএস বার্তা, মোবাইল অ্যাপ সতর্কতা এবং অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে যোগাযোগ করা বা ব্যবহার করা যেতে পারে।
সহজভাবে বলা যায়, মোবাইল মার্কেটিং হল একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি যা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছানো যায়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
এফিলিয়েট মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর এমন একটি মাধ্যম, যেখানে বিভিন্ন কোম্পানিরা কমিশন (commission) এর লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইট বা ব্লগে তাদের brand বা product এর মার্কেটিং বা প্রমোশন করানো হয়।
ভিডিও মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপন
ইউটিউবের চ্যানেল বানিয়ে তাতে নিজের business বা brand এর ব্যাপারে ভিডিও বানিয়ে অনেক কোম্পানি বা business owners রা ভিডিওর মাধ্যমে নিজের ব্যবসার প্রচার বা প্রমোশন করছেন। আপনি YouTube এ গিয়ে যেকোনো কোম্পানির বিষয়ে সার্চ করে দেখুন, আপনি তাদের official product বা service এর অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন। ইউটিউব, গুগল সার্চ এর পর দ্বিতীয় সবথেকে বড়ো সার্চ ইঞ্জিন, যেখানে প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ লোকেরা ভিডিও দেখতে আসেন। তাই, যেকোনো জিনিসের বা পণ্যর প্রমোশন (promotion) করার জন্য ভিডিও বানিয়ে YouTube এ ছাড়াটা অনেক লাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা
আপনি আপনার টার্গেট শ্রোতাদের সাথে যুক্ত হতে বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে আপনার গ্রাহকদের সাথে সঠিক সময়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এটি তাদের আপনার সাথে কথা বলার সুযোগও দেয়, যা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দ্রুত-গতির বিশ্বে দর্শকদের আকর্ষণ করার জন্য লিখিত সামগ্রীর চেয়ে সংক্ষিপ্ত, চটকদার ভিডিওগুলির উপর আকর্ষণ সবার এ থাকে ৷ ডিজিটাল মার্কেটিং এ লাইভ বা রেকর্ড করা ভিডিও বা অডিও বিষয়বস্তু যা হতে পারে শিক্ষামূলক বা বিনোদনমূলক।
চলুন তাহলে নিচে এক এক করে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কি লাভ তা জেনেনেই।
Digital marketing এর লাভ –
Digital marketing আজ যেকোনো পণ্য, কোম্পানি, সার্ভিসেরমার্কেটিং এর সেরা এবং অনেক শক্তিশালী মাধ্যম।
সাধারণ বা পুরোনো মার্কেটিং এর মাধ্যমের থেকে অনেক কম খরচেই এর লাভ নেয়া যায়।
ডিজিটাল মার্কেটিং করে আপনি নিজের গ্রাহক (targeted customer) কে লক্ষ রেখে মার্কেটিং করতে পারবেন।
এই মাধ্যমে মার্কেটিং করার জন্য আপনার কোথাও যেতে হয়না বা কোনো কর্মচারী রাখতে হয়না। পুরোটাই কেবল একটি কম্পিউটার বামোবাইল এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার করেই করতে পারবেন।
অনেক কম সময়ে আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের brand, business বা product অনেক লোক বা ভোক্তার (consumer) কাছে প্রচার বা মার্কেটিং করতে পারবেন।
লক্ষবস্তু ভোক্তাকে টার্গেট করে এই মাধ্যম ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা ইন্টারনেটের অনেক মাচা (platform) ব্যবহার করে মার্কেটিং করার ফলে অনেক কম সময়ে, ভালো এবং লাভজনক পরিনাম পাওয়া যায়।
আপনি একটি ছোট পণ্য বিক্রি করতে চাইছেন বা নিজের business এবং brand তৈরি করতে চাইছেন, ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা এইটা অনেক কম সময়েই সম্ভব।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই মার্কেটিং হয়, তাই জন্যই অনেক সহজে, জলদি এবং লাভজনক ভাবে আপনার বিজ্ঞাপন বা পণ্য লোকেদের মাঝে ছড়িয়ে পরে।
ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবেন ?
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে এতে ক্যারিয়ার বানানোর কথা যদি আপনি ভাবছেন, তাহলে এইটা আপনার জন্য অনেক সুন্দর সুযোগ হতে পারে।
আজ ইন্টারনেট এর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে, এবং ভবিষ্যৎ সময়ে এর ব্যবহার আরো কয়েক গুনে বেড়ে যাবে।
এর ফলে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়ার ব্যবহার ও বেড়েযাবে আর তাই এর সাথে জড়িত অনেক কোম্পানি গুলিতে চাকরির সুযোগ অনেক হয়ে উঠবে।
যেমন অনেক হোস্টিং কোম্পানি, অনলাইন বিজ্ঞাপনের কোম্পানি, web designing company, email marketing company, Search engine optimization, content marketing, social media marketing এরকম অনেক কোম্পানি আছে যেগুলিতে আপনি চাকরি পেতে পারেন যদি আপনার digital marketing এর জ্ঞান বা সার্টিফিকেট (certificate) থাকে।
তাই, ইন্টারনেট মার্কেটিং ক্ষেত্রে যদি আপনি ক্যারিয়ার বানানোর কথা ভাবছে তাহলে আমার মতে সেটা অনেক লাভ জনক হবে।
এবং,আপনি চাইলে আমাদের থেকে Digital marketing course শিখে নিতে পারেন।
এছারাও অনেক অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ইউটিউবে ভিডিও রয়েছে যেগুলি দেখে বা পরে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারবেন।
সুতরাং, আমরা আশা করি আমাদের দর্শকরা ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কত প্রকারের ডিজিটাল মার্কেটিং হতে পারে এই সম্পর্কিত তথ্য জেনে উপকৃত হয়েছেন।